বাগমারায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি : ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি

রাজশাহীর বাগমারায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। পানির প্রবল চাপে ৫টি স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। এতে ছয়টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। কোমর পর্যন্ত পানি উঠেছে ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। ডুবে গেছে বিভিন্ন সড়ক। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ছয় ইউনিয়নের ৪০ হাজার মানুষ। দ্রুত গতিতে বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আরো কয়েকটি স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ হুমকির মুখে রয়েছে। যে কোনো মূহুর্তে সেগুলো ভেঙ্গে গিয়ে নতুনভাবে আরো বিভিন্ন এলাকা বন্যা কবলিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এতে বাঁধ সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী লোকজনের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।



সরজমিনে বন্যা কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পানির প্রবল চাপে বৃহস্পতিবার সকালে বীরকয়া এলাকার বটতলা ঘাটে, উত্তর বীরকয়া, সোনাবিলা, জোলাপাড়া হাট সংলগ্ন এবং গোবিন্দপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন বাঁধসহ ৫টি স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। এতে গোবিন্দপাড়া, সোনাডাঙ্গা, নরদাশ, শুভডাঙ্গা, বাসুপাড়া ও দ্বীপপুর ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। গ্রামের চারদিকে বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় এবং বাড়িঘরের মধ্যে পানি প্রবেশ করায় ওই সব গ্রামের লোকজন বাড়ি থেকে বের হতে পারছেনা। এ অবস্থায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের দামনাশ মহাবিদ্যালয়, দামনাশ-পারদামনাশ উচ্চ বিদ্যালয়, দামনাশ দাখিল মাদ্রাসা, দামনাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রমজানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রমাজনপাড়া কারিগরি হাইস্কুল স্কুল এ্যান্ড কলেজ, সোনাডাঙ্গা ইউনিয়নের নাসিরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ, শেরকোল-শিমলা উচ্চ বিদ্যালয়, শেরকোল-শিমলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর জামালপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও সোনাডাঙ্গা-ভরট্র আলিম মাদ্রাসা এবং নরদাশ ইউনিয়নের হুলিখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুমারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কুমারপুর দাখিল মাদ্রাসা এবং দ্বীপপুর ইউনিয়নের মীরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মীরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষের মেঝেতে হাটু পর্যন্ত পানি জমেছে। এ অবস্থায় ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাধারন ছুটি ঘোষনা করা হয়েছে।
গোবিন্দপাড়া ইউপি’র চেয়ারম্যান বিজন সরকার জানান, অনাকাঙ্খিত বন্যায় আমার ইউনিয়নের রমজানপাড়া, শালজোড়, বোয়ালিয়া, গোবিন্দপাড়া, বিলমালোলী, দেওপাড়া, হরিপুর, হাতরুম, শান্তিপাড়া, রুদ্রমূখা, রামপুর পাঁথার, বানইল, মাড়িয়া এবং বাকশৈইলসহ ১৫ গ্রাম ডুবে গেছে। অনেক কাঁচা বাড়ি পড়ে গেছে। ডুবে গেছে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল। চেয়ারম্যান বিজন সরাকর আরো জানান, ইউনিয়নের প্রধান হাট দামনাশ বাজার বর্তমানে কোমর পর্যন্ত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া হাট দামনাশ থেকে শিমলা বাজার হয়ে ফতেপুর হাট পর্যন্ত সড়কের পুরোটাই বন্যার পানিতে ডুবে গেছে এবং ওই সড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩০০ ফিট এলাকা ভেঙ্গে বিলীন হয়ে গেছে। এতে এলাকার লোকজনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সোনাডাঙ্গা ইউপি’র চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আজাহারুল হক জানান, হাট দামনাশ থেকে শিমলা বাজার হয়ে ফতেপুর হাট পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে যাওয়ায় সোনাডাঙ্গা ইউনিয়নের জামালপুর, সোনাডাঙ্গা, বিলশনি, ভরট্র, জয়পুর, লিকড়া ও শেরকোল শিমলাসহ ৯টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। বন্যা কবলিত ওইসব গ্রামের অসংখ্য পরিবার এখন পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিউল ইসলাম বলেন, দ্রুত গতিতে বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আরো কয়েকটি স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ হুমকির মুখে রয়েছে। যে কোনো মূহুর্তে সেগুলো ভেঙ্গে গিয়ে নতুনভাবে আরো বিভিন্ন এলাকা বন্যা কবলিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এতে বাঁধ সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী লোকজনের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের নিরাপদ স্থানে গিয়ে আশ্রয় নেয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: খবর সারাদিন
Share:
কপিরাইট © আলোকিত বাগমারা | প্রস্তুতকারক: TrialServices® সজ্জা: Nahid Hossen Golap